logo

বাংলাদেশে BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স করার সম্পূর্ণ গাইড

বাংলাদেশে BRTA (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়ার প্রক্রিয়া এখন অনেকটাই ডিজিটালাইজড। ঘরে বসেই অনলাইনে অধিকাংশ ধাপ সম্পন্ন করা যায়।

লাইসেন্সের ধরন ও বয়স

  • অপেশাদার (Non-Professional): ব্যক্তিগত গাড়ি বা মোটরসাইকেলের জন্য। ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। মেয়াদের সময়সীমা ১০ বছর।

  • পেশাদার (Professional): ভাড়ায় চালিত বা বাণিজ্যিক যানবাহনের জন্য। ন্যূনতম বয়স ২০ বছর। মেয়াদের সময়সীমা ৫ বছর।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

১. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) / অনলাইন বার্থ সার্টিফিকেট / পাসপোর্ট-এর স্ক্যান কপি।

২. রেজিস্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক স্বাক্ষরিত মেডিকেল সার্টিফিকেট (BRTA এর নির্ধারিত ফরম)।

৩. শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র (কমপক্ষে ৮ম শ্রেণী পাস)।

৪. পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও ইউটিলিটি বিলের কপি (ঠিকানা প্রমাণের জন্য, যদি NID-র ঠিকানা ভিন্ন হয়)।

1.BSP পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খোলা:bsp.brta.gov.bd.

BRTA Service Portal (BSP)-এ প্রবেশ করে আপনার NID নম্বর, মোবাইল নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন।

2.শিক্ষানবিশ (Learner) লাইসেন্সের আবেদন:অনলাইন আবেদন ও ফি প্রদান.

প্রোফাইল থেকে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন সিলেক্ট করুন। মেডিকেল সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজ আপলোড করুন। বিকাশ, নগদ বা কার্ডের মাধ্যমে ফি প্রদান করুন (সাধারণত ১টি ক্যাটাগরির জন্য ৫১৮ টাকা, ২টির জন্য ৭৪৭ টাকা)। আবেদন মঞ্জুর হলে ই-লার্নার কার্ডটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন।

3.পরীক্ষায় অংশগ্রহণ (৩-ইন-১ পরীক্ষা):লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট.

লার্নার কার্ডে প্রদত্ত নির্ধারিত তারিখ ও কেন্দ্রে গিয়ে লিখিত, মৌখিক এবং ড্রাইভিং ফিল্ড টেস্ট (zigzag & parking) প্রদান করতে হবে। সাথে লার্নার কার্ডের প্রিন্ট কপি ও কলম রাখতে হবে।

4.স্মার্ট কার্ডের জন্য ফি ও বায়োমেট্রিক:পরীক্ষায় পাস করার পর.

পরীক্ষায় কৃতকার্য হলে BSP পোর্টালে পরীক্ষার রেজাল্ট আপডেট হয়ে যাবে। এরপর স্মার্ট কার্ড লাইসেন্স ফি প্রদান করতে হবে। নির্ধারিত তারিখে সার্কেল অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ, ডিজিটাল ছবি ও স্বাক্ষর) প্রদান করুন।

5.লাইসেন্স ও ই-লাইসেন্স সংগ্রহ:ডাকযোগে বা সরাসরি.

বায়োমেট্রিক শেষ হলে সিস্টেম থেকে অস্থায়ী ই-লাইসেন্স/পেপার লাইসেন্স ডাউনলোড করা যায়, যা দিয়ে অবিলম্বে গাড়ি চালানো সম্ভব। পরবর্তীতে স্মার্ট কার্ড তৈরি হলে ডাকযোগে আপনার ঠিকানায় পৌঁছে যাবে বা সার্কেল অফিস থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির বিস্তারিত গাইড নিচে দেওয়া হলো।

১. মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহের প্রক্রিয়া

মেডিকেল সার্টিফিকেট হলো একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক আপনার শারীরিক ও দৃষ্টিশক্তির সুস্থতার সনদ।

  • ফরম সংগ্রহ: BRTA-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (brta.gov.bd) অথবা BSP পোর্টাল থেকে "Medical Certificate Form for BRTA Driving Licence" বা ফরম-২ বিনামূল্যে ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন।

  • ডাক্তার নির্বাচন: ফরমটি যেকোনো রেজিস্টার্ড এমবিবিএস (MBBS) ডাক্তার (সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল/ক্লিনিক) দ্বারা পূরণ করাতে হবে।

  • পরীক্ষা ও সত্যায়ন: ডাক্তার আপনার চোখের দৃষ্টিশক্তি, কালার ব্লাইন্ডনেস (রং চেনার ক্ষমতা), শ্রবণশক্তি ও সাধারণ শারীরিক সুস্থতা পরীক্ষা করবেন।

  • স্বাক্ষর ও সিল: প্রার্থীর পাসপোর্ট সাইজের ছবিতে ডাক্তারের সিল ও স্বাক্ষর থাকবে। ফর্মে ডাক্তারের নাম, পদবি ও BMDC রেজিস্ট্রেশন নম্বর সঠিকভাবে উল্লেখ থাকা আবশ্যক।

২. লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

লিখিত পরীক্ষায় মূলত ট্রাফিক সাইন, ট্রাফিক আইন ও মেকানিক্সের সাধারণ মৌলিক প্রশ্ন থাকে। পাস নম্বর সাধারণত ২০ এর মধ্যে ১২।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী:

  • ট্রাফিক সাইন (Traffic Signs): তিন ধরনের সাইন ভালোভাবে মুখস্থ করুন:

    1. বাধ্যতামূলক (Mandatory): বৃত্তাকার (যেমন: গতিসীমা, নো-এন্ট্রি)।

    2. সতর্কতামূলক (Cautionary): ত্রিভুজাকার (যেমন: অন্ধ বাঁক, পথচারী পারাপার)।

    3. তথ্যমূলক (Informative): আয়তাকার (যেমন: হাসপাতাল, পার্কিং এলাকা)।

  • সাধারণ জ্ঞান ও আইন: মোটরযান আইন, ন্যূনতম বয়স (অপেশাদার ১৮, পেশাদার ২১), লাল-হলুদ-সবুজ ট্রাফিক লাইটের অর্থ, ওভারটেকিং নিয়ম।

  • মেকানিক্স: ইঞ্জিনের প্রধান অংশসমূহ, কুল্যান্ট/রেডিয়েটর চেক, ব্রেক ফ্লুইড, টায়ার প্রেশার, ব্যাটারি রক্ষণাবেক্ষণ।

টিপস: BRTA-এর ওয়েবসাইট থেকে "প্রশ্ন ব্যাংক" (Question Bank) পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করে নিন। এতে লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত নমুনা প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া থাকে।

৩. মৌখিক (Viva) পরীক্ষার প্রস্তুতি

লিখিত পরীক্ষার পরেই ভাইভা নেওয়া হয়।

  • ট্রাফিক সাইনের ছবি দেখে নাম বলতে বলা হয়।

  • ট্রাফিক সিগন্যাল ও রাস্তার মার্কিং (যেমন: ভাঙা সাদা দাগ ও টানা সাদা দাগের পার্থক্য) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়।

  • গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের নাম (রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস, রুট পারমিট) জানতে চাইতে পারে।

৪. ফিল্ড টেস্ট (ড্রাইভিং পরীক্ষা) প্রস্তুতি

ফিল্ড টেস্টে আপনার বাস্তবে গাড়ি চালানোর নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা করা হয়।

  • মোটরসাইকেলের জন্য:

    • Zig-Zag (জিগ-জ্যাগ) টেস্ট: কতগুলো খুঁটির (Poles) মাঝখান দিয়ে এঁকেবেঁকে মোটরসাইকেল চালিয়ে নিয়ে যেতে হবে। পা নিচে ফেললে বা খুঁটিতে স্পর্শ করলে ফেল।

    • Gradual Stop & Ramp: নির্দিষ্ট জায়গায় সঠিক সিগন্যাল দিয়ে থামা ও স্টার্ট করা।

  • কার/চার চাকার যানবাহনের জন্য:

    • Zig-Zag & S-Curve Drive: নির্দিষ্ট ট্র্যাকে গাড়ি সামনে চালানো এবং ব্যাক (Reverse) করে পেছনে আনা।

    • Parallel Parking & Garage Parking: নির্দিষ্ট মার্কারের মধ্যে গাড়ি সফলভাবে পার্ক করা।

    • Ramp Test: ঢালু জায়গায় গাড়ি থামিয়ে পেছনে না গড়িয়ে আবার সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া।

ফিল্ড টেস্টে পাসের মূল কৌশল: গতি একদম নিয়ন্ত্রণে রাখা, তাড়াহুড়ো না করা, সিটবেল্ট বাঁধা (ফোর-হুইলারের ক্ষেত্রে) এবং রিয়ার-ভিউ ও সাইড মিরর সঠিকভাবে ব্যবহার করা।

 

BRTA ড্রাইভিং পরীক্ষার লিখিত অংশের কমন প্রশ্নসমূহ এবং ফিল্ড টেস্টে (জিগ-জ্যাগ ও পার্কিং) পাস করার কার্যকরী কৌশল নিচে দেওয়া হলো।

 

১. প্রশ্ন ব্যাংকের কমন লিখিত প্রশ্ন ও উত্তর

সাধারণ আইন ও নিয়মাবলি:

১. পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বয়স কত?

উত্তর: অপেশাদার ১৮ বছর এবং পেশাদার ২১ বছর।

২. লাল, হলুদ ও সবুজ ট্রাফিক লাইটের অর্থ কী?

উত্তর: লাল = থামুন, হলুদ = থামার জন্য প্রস্তুত হোন বা সাবধানে চলুন, সবুজ = এগিয়ে যান।

৩. রাস্তায় ‘টানা সাদা বা হলুদ দাগ’ থাকলে কী বোঝায়?

উত্তর: ওভারটেকিং করা বা লেন পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ নিষেধ।

৪. হাইওয়েতে বা দূরপাল্লার ড্রাইভিংয়ের ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত সাথে কী কী কাগজপত্র রাখতে হয়?

উত্তর: গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস সনদ এবং ইন্স্যুরেন্সের কপি (পেশাদার গাড়ির ক্ষেত্রে রুট পারমিট)।

মেকানিক্স ও সাধারণ জ্ঞান:

৫. ইঞ্জিন ওভারহিট (অতিরিক্ত গরম) হলে প্রাথমিক কাজ কী?

উত্তর: গাড়ি নিরাপদ স্থানে থামিয়ে ইঞ্জিন ঠাণ্ডা হতে দেওয়া এবং রেডিয়েটরের কুল্যান্ট/পানি লেভেল চেক করা।

৬. গাড়ির ব্রেক ফেল করলে সাথে সাথে কী করা উচিত?

উত্তর: থ্রোটল/অ্যাক্সিলারেটর ছেড়ে দিয়ে গিয়ার এক ধাপ এক ধাপ করে কমিয়ে (ইঞ্জিন ব্রেকিং) হ্যান্ডব্রেক ধীরে ধীরে ব্যবহার করা।

৭. টায়ারের সঠিক প্রেশার না থাকলে কী সমস্যা হয়?

উত্তর: জ্বালানি খরচ বাড়ে, টায়ার দ্রুত ক্ষয় হয় এবং গাড়ি স্ট্রিয়ারিং কন্ট্রোল করা কঠিন হয়ে পড়ে।

২. জিগ-জ্যাগ (Zig-Zag) ও '8' টেস্ট পাসের কৌশল

জিগ-জ্যাগ ট্র্যাকে মূলত আঁকাবাঁকা খুঁটি (Poles) স্পর্শ না করে এবং গাড়ি স্টল (বন্ধ) না করে বের হয়ে আসতে হয়।

মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে:

  • হাফ-ক্লাচ ও রিয়ার ব্রেক: হাফ-ক্লাচে বাইক রেখে রেস হালকা ও ধ্রুবক (Constant) রাখুন। বাইকের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে ফ্রন্ট ব্রেক ব্যবহার না করে শুধুমাত্র রিয়ার/পেছনের ব্রেক হালকা চেপে ধরুন।

  • দৃষ্টি থাকবে সামনে: যে খুঁটি অতিক্রম করছেন সেটির দিকে না তাকিয়ে, এর পরবর্তী বাঁকের দিকে চোখ রাখুন।

  • পা নিচে ফেলবেন না: বডি ব্যালেন্স ঠিক রাখতে হাঁটু দুটি ফুয়েল ট্যাঙ্কের সাথে শক্ত করে চেপে রাখুন।

কার/ফোর-হুইলারের ক্ষেত্রে:

  • ফার্স্ট গিয়ার ও ক্লাচ কন্ট্রোল: পুরো ট্র্যাকটি ১ম গিয়ারেই অতিক্রম করবেন। অ্যাক্সিলারেটরে চাপ না দিয়ে ক্লাচ ছেড়ে গাড়িকে কেবল রোলিং স্পিডে চলতে দিন।

  • লুকিং গ্লাস ও লুক হেড: গাড়ির দুই পাশের লুকিং গ্লাস খেয়াল রাখুন যেন খুঁটিতে সাইড বডি না লাগে।

  • রিভার্স জিগ-জ্যাগ: পেছনের দিকে ব্যাকে নেওয়ার সময় গ্লাসের সাহায্যে খুঁটির অবস্থান নিশ্চিত হয়ে স্ট্রিয়ারিং দ্রুত কাটুন।

৩. পার্কিং (Parallel & Garage Parking) পাসের কৌশল

১. রেফারেন্স পয়েন্ট নির্ধারণ: পার্কিং স্পেসে ঢোকার সময় ফ্ল্যাগ পোস্ট বা মার্কার খুঁটিটিকে আপনার গাড়ির পেছনের সিটের কাচ বা সি-পিলারের সাথে মিলিয়ে রেফারেন্স হিসেবে নিন।

২. ধীরে স্ট্রিয়ারিং ঘোরানো: গাড়ি পুরোপুরি থামিয়ে বা একদম ধীরগতিতে থাকা অবস্থায় পুরো স্ট্রিয়ারিং এক দিকে কাটান, তারপর আস্তে আস্তে ব্যাকে যান।

৩. তিনটি আয়নার ব্যবহার: বাম, ডান এবং ভেতরের লুকিং গ্লাসে এক পলকে চোখ রাখুন। পাশের বা পেছনের দাগে চাকা স্পর্শ করলেই ফেল হিসেবে গণ্য হবে।

৪. হ্যান্ডব্রেক ব্যবহার: পার্কিং সম্পন্ন হলে নিউট্রাল করে হ্যান্ডব্রেক টেনে দিতে ভুলবেন না।

 

BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার দিন সামান্য ভুল বা অসাবধানতার কারণে অনেক দক্ষ চালকও ফেল করে বসেন। পরীক্ষার তিন অংশেই (লিখিত, ভাইভা ও ফিল্ড টেস্ট) প্রার্থী যেসব সাধারণ ভুল করেন এবং তা এড়ানোর উপায় নিচে দেওয়া হলো:

 

১. লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষার ভুল এবং এড়ানোর উপায়

  • ভুল: ট্রাফিক সাইনের ধরন না বুঝে গুলিয়ে ফেলা (যেমন: সতর্কতামূলক ও বাধ্যতামূলক সাইন আলাদা করতে না পারা)।

  • ভুল: তাড়াহুড়ো করে প্রশ্ন না পড়ে ভুল উত্তর দাগানো।

  • এড়ানোর উপায়: * বৃত্তাকার মানে বাধ্যতামূলক, ত্রিভুজাকার মানে সতর্কতামূলক এবং আয়তাকার মানে তথ্যমূলক—এই মৌলিক বিষয়টি পরিষ্কার রাখুন।

    • পরীক্ষার আগের রাতে বিআরটিএ-এর অফিসিয়াল প্রশ্ন ব্যাংকটি অন্তত একবার রিভিশন দিন।

২. ফিল্ড টেস্টের (ড্রাইভিং পরীক্ষা) সাধারণ ভুল

  • সিটবেল্ট বা হেলমেট পরতে ভুলে যাওয়া:

    • ভুল: গাড়িতে উঠে স্টার্ট দেওয়ার আগে সিটবেল্ট না বাঁধা, কিংবা বাইকে উঠে হেলমেটের স্ট্র্যাপ না লাগানো। এতে শুরুতেই নেগেটিভ মার্কিং হয়।

    • উপায়: গাড়িতে বসেই প্রথম কাজ হবে সিটবেল্ট বাঁধা এবং লুকিং গ্লাস নিজের সুবিধামতো অ্যাডজাস্ট করা।

  • হাফ-ক্লাচ ও এক্সিলারেটরের অসমানঞ্জস্য (ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়া):

    • ভুল: নার্ভাস হয়ে ক্লাচ দ্রুত ছেড়ে দেওয়া বা ব্রেক চেপে রাখা অবস্থায় থ্রোটল দেওয়া, যার ফলে ইঞ্জিন স্টল (বন্ধ) হয়ে যায়।

    • উপায়: ক্লাচ আস্তে আস্তে ছাড়ুন এবং বাইক/গাড়ির 'বাইটিং পয়েন্ট' (যেখানে গাড়ি কাঁপতে শুরু করে এবং এগোতে চায়) অনুভব করে হালকা থ্রোটল দিন।

  • জিগ-জ্যাগ ও ‘৮’ ট্র্যাকে পা নিচে ফেলা বা খুঁটিতে স্পর্শ করা:

    • ভুল: মোটরসাইকেল টেস্টে গতি একদম কমিয়ে ফেলে ব্যালেন্স হারিয়ে পা মাটিতে ফেলা, অথবা গাড়ির বডি খুঁটি বা সীমানা রেখায় লাগিয়ে দেওয়া।

    • উপায়: বাইকের ক্ষেত্রে দৃষ্টি সামনে রাখুন, পায়ের হাঁটু ফুয়েল ট্যাঙ্কের সাথে চেপে ধরুন এবং গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কেবল পেছনের ব্রেক ব্যবহার করুন। গাড়ির ক্ষেত্রে শুধু ১ম গিয়ারে রেখে রোলিং স্পিডে গাড়ি চালান।

  • লুকিং গ্লাস ব্যবহার না করা:

    • ভুল: ব্যাক/রিভার্স করার সময় সাইড মিরর না দেখে শুধু মাথা ঘুরিয়ে পেছনের দিকে তাকানো।

    • উপায়: পার্কিং বা ব্যাক করার সময় দুই পাশের সাইড মিরর ও লুকিং গ্লাসে নজর রাখুন।

৩. মানসিক প্রস্তুতি ও সময় ব্যবস্থাপনা

  • অতিরিক্ত নার্ভাসনেস: পরীক্ষকদের দেখে নার্ভাস হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া।

  • এড়ানোর উপায়: পরীক্ষার দিন নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে পৌঁছান। সাথে মূল লার্নার কার্ড, এনআইডি এবং কলম রাখুন। ফিল্ড টেস্ট দেওয়ার সময় পরীক্ষক নয়, কেবল ট্র্যাক এবং নিজের গাড়ি চালনার দিকে মনোযোগ দিন।

 

BRTA ফিল্ড টেস্টে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি বা বাইক ব্যবহার করা সব দিক থেকেই সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক।

 

বিষয় নিজের বাইক/গাড়ি বিআরটিএ/পরীক্ষা কেন্দ্রের গাড়ি
অভ্যস্ততা ও কন্ট্রোল ক্লাচ, ব্রেক ও গিয়ারের রেসপন্স আগে থেকেই চেনা থাকে। ক্লাচ প্লেট ক্ষয়প্রাপ্ত বা ব্রেক হার্ড হতে পারে, যা নতুন ড্রাইভারের জন্য সামলানো কঠিন।
ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি ক্লাচের বাইটিং পয়েন্ট জানা থাকায় স্টল হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। ক্লাচ কন্ট্রোল বুঝতে না পেরে প্রথমবারেই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে ফেল করার ঝুঁকি থাকে।
লুকিং গ্লাস ও সিটিং নিজের উচ্চতা অনুযায়ী আগেই অ্যাডজাস্ট করা থাকে। প্রতি প্রার্থীর পর অ্যাডজাস্ট করতে সময় পাওয়া যায় না বা এডজাস্টমেন্ট আলগা থাকতে পারে।
ব্যয় অতিরিক্ত কোনো ভাড়া দিতে হয় না। সেন্টার ভেদে নির্দিষ্ট ভাড়ার ফি (যদি প্রযোজ্য হয়) গুনতে হয়।

নিজের গাড়ি নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন:

  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: আপনার গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস সনদ এবং ইন্স্যুরেন্সের সঠিক ও হালনাগাদ কাগজপত্র সাথে থাকতে হবে।

  • সাহায্যকারী রাখা: যেহেতু আপনার কাছে তখনো মূল লাইসেন্স নেই, তাই পরীক্ষা কেন্দ্র পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একজন বৈধ লাইসেন্সধারী ড্রাইভার সাথে রাখা বাধ্যতামূলক।